দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন ৩০০ ফিট সড়কের (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) সুবিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া এই ভাষণে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা বর্তমানে নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমাদের যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে এবং যেকোনো উসকানির মুখে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।”
তারেক রহমান তার বক্তৃতায় তরুণ প্রজন্মকে আগামীর নেতৃত্বের মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সরাসরি তরুণদের সম্বোধন করে বলেন, “তোমরাই আগামী দিনে এই দেশকে নেতৃত্ব দেবে এবং সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে। আজ এই দায়িত্ব তোমাদের গ্রহণ করতে হবে, যাতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর আমরা বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে পারি।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের মেধা ও শ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান বিশ্ববিখ্যাত নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উক্তির আদলে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন তাঁর একটি স্বপ্ন আছে, আর আমি বলছি—আমার একটি পরিকল্পনা আছে (আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান)।
এই পরিকল্পনা আমার দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের সমর্থন থাকলে যেকোনো অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “আজ আমাদের সঙ্গে অনেক অভিজ্ঞ নেতা রয়েছেন। আসুন, আমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন আমরা জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।” তিনি বারবার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উসকানির মুখে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। তার মতে, একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কেবল ষড়যন্ত্রকারীদেরই সুবিধা দেবে, তাই ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে যখন তারেক রহমান সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান, তখন সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তায় হাজার হাজার নেতাকর্মীর অভিবাদন গ্রহণ করতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে তিনি সভাস্থলে পৌঁছান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ও ‘গণতান্ত্রিক পরিকল্পনার’ ঘোষণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যান। মা ও ছেলের এই পুনর্মিলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আবেগ কাজ করছে। হাসপাতাল থেকে তিনি গুলশানের বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তার পরিবার আগে থেকেই অবস্থান করছে। আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে তারেক রহমানের রাজসিক প্রত্যাবর্তন এবং এক নতুন উন্নয়নমুখী রাজনীতির সূচনালগ্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

