রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি থানার সন্নিকটে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরের দিকে দক্ষিণ মস্কোর ইয়েলেতস্কায়া সড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মাত্র দুই দিন আগে একই এলাকায় রুশ সেনাবাহিনীর একজন শীর্ষ জেনারেল গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার পর এই বিস্ফোরণ রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিটি (Investigative Committee) জানিয়েছে, বুধবার রাত দেড়টার দিকে ইয়েলেতস্কায়া সড়কে টহলরত ট্রাফিক পুলিশের একটি দল একটি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি পুলিশ ভ্যানের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে জেরা করার চেষ্টা করতেই তিনি নিজের কাছে থাকা শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা আরও একজন ব্যক্তি (যাকে হামলাকারী হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে) নিহত হন।
নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেছে মস্কো স্টেট ট্রাফিক ইন্সপেক্টরেট। তারা হলেন—২৪ বছর বয়সী লেফট্যানেন্ট ইলিয়া ক্লিম্যানভ এবং ২৫ বছর বয়সী লেফট্যানেন্ট মাক্সিম গর্বুনভ। পুলিশ জানিয়েছে, গর্বুনভ ২০২২ সালে বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং তাঁর ৯ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত এই কর্মকর্তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এবং সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
এই হামলার ধরন এবং সময় নিয়ে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগে রয়েছে। ঠিক দুদিন আগে, গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এই একই এলাকায় ইয়াসেনেভায়া স্ট্রিটে একটি ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় রুশ জেনারেল স্টাফের অপারেশনাল ট্রেনিং ডিরেক্টরেটের প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ নিহত হন। ৫৬ বছর বয়সী এই জেনারেল সিরিয়া ও চেচনিয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন এবং বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব তদারকি করতেন।
যদিও বুধবারের হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি, তবে রুশ তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে এই দুটি হামলার পেছনেই ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার (SBU বা GUR) হাত থাকতে পারে। এর আগে গত এক বছরে মস্কোতে একই কায়দায় লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ এবং লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়ারোস্লাভ মোসকালিক নিহত হয়েছিলেন, যাদের মৃত্যুর জন্যও ইউক্রেনীয় ‘স্পেশাল অপারেশন’কে দায়ী করেছিল ক্রেমলিন।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পর একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে এবং সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করে এই দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বড়দিনের উৎসবের ঠিক আগ মুহূর্তে মস্কোর প্রাণকেন্দ্রে এমন ধারাবাহিক হামলায় শহরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

