শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে নীরবে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ সরকারের নেই।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, যদি কোনো উপদেষ্টা পদত্যাগ করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে যে কারা তাকে কাজ করতে বাধা দিয়েছে এবং কোন অপশক্তির প্রভাবে বিচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশে জুমা সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদের শেষ সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতায় নেই, হয়তো মাসখানেক সময় হাতে আছে।
এই বাস্তবতায় কেউ যদি আগেভাগে পদত্যাগ করে দায় এড়ানোর বা পালিয়ে যাওয়ার পথ খোঁজেন, তবে দেশের ছাত্র-জনতা তা সফল হতে দেবে না।” তিনি দাবি করেন, পদ ছাড়ার আগে উপদেষ্টাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে যে, তারা কার সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চেয়ারে বসে ছিলেন এবং কেন ওসমান হাদির খুনিদের এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
ইনকিলাব মঞ্চের এই নেত্রী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ। তার অভিযোগ, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করেছে, যার সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রভাবশালী একটি অংশের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
জুমা সরকারের আইন উপদেষ্টার দেওয়া ৯০ দিনের সময়সীমা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “যে সরকারের নিজের মেয়াদই অনিশ্চিত, তাদের কাছ থেকে ৯০ দিনের আশ্বাস অর্থহীন।” তিনি দাবি তোলেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে এবং এক মাসের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও একটি গুরুতর অভিযোগ আনেন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে। জুমার দাবি অনুযায়ী, ওসমান হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আগাম তথ্য ছিল। তা সত্ত্বেও কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করাকে তিনি স্রেফ ব্যর্থতা নয়, বরং ‘সচেতন অবহেলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে এভাবে জীবন দিতে হলো? “আমার ভাই কবরে শুয়ে আছে, এই অবস্থায় সরকার রক্ষার কোনো দায় আমাদের নেই; বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের একমাত্র অগ্নিপরীক্ষা,” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন এজেন্সি সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষণা দেয়, যতক্ষণ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এবং পর্দার আড়ালের কুশীলবদের গ্রেফতার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা রাজপথ ছাড়বে না।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের লাগাতার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাওয়া এই তরুণ নেত্রীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর জনদাবি পূরণের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

