বলিউডের ‘খিলাড়ি’খ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমার বরাবরই চমক দিতে ভালোবাসেন। রুপালি পর্দার মারকুটে অ্যাকশন কিংবা সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্রের পর এবার তিনি ফিরছেন টেলিভিশনের দুনিয়ায়। তবে কোনো সাধারণ রিয়েলিটি শো নয়, বিশ্বখ্যাত গেম শো ‘হুইল অফ ফরচুন’-এর ভারতীয় সংস্করণের সঞ্চালক হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন এই সুপারস্টার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক মানের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অক্ষয় কুমার আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন যে, বিনোদনের সব মাধ্যমেই তার আধিপত্য অনস্বীকার্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো হলো ‘হুইল অফ ফরচুন’। কয়েক দশক ধরে বিদেশের মাটিতে রাজত্ব করার পর এবার অনুষ্ঠানটি ভারতীয় দর্শকদের জন্য নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠানটির একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রোমো বা বিজ্ঞাপন চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। প্রোমোতে অক্ষয় কুমারকে দেখা গেছে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চর্চিত চরিত্র ‘তিস মার খান’-এর লুকে, যা দর্শকদের পুরনো নস্টালজিয়া উসকে দিয়েছে।
প্রকাশিত প্রোমোতে অক্ষয় কুমার অত্যন্ত চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন যে, সামান্য একটি বর্ণের পরিবর্তন কীভাবে মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। একটি হাস্যরসাত্মক অথচ অর্থবহ গল্পের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরেন যে, এক ধনকুবের তার উইলে উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজের ছেলের নাম ‘রাম’ লিখতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু চতুর ভৃত্য রামুর কৌশলে সেখানে একটি অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হয়ে নামটি ‘রামু’ হয়ে যায়। আর এই সামান্য পরিবর্তনেই বদলে যায় বিশাল সম্পত্তির মালিকানা। অক্ষয় কুমারের কণ্ঠে ‘একটি মাত্র অক্ষর পুরো জীবন বদলে দিতে পারে’—এই সংলাপটি যেন গেম শোটির মূল সুরকে ফুটিয়ে তুলেছে। শব্দের মারপ্যাঁচ আর ভাগ্যের চাকার ঘূর্ণনই হবে এই রোমাঞ্চকর অনুষ্ঠানের প্রধান উপজীব্য।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘হুইল অফ ফরচুন’ একটি কিংবদন্তি সমতুল্য নাম। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে বিভিন্ন ভাষায় অত্যন্ত সফলভাবে এই শো পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত এটি আটটি মর্যাদাপূর্ণ ‘এমি অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে, যা এর গুণগত মান ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। বিদেশের মাটিতে অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য কোটি টাকার পুরস্কার জেতার দ্বার উন্মোচন করতে চলেছেন অক্ষয় কুমার। প্রতিটি সঠিক বর্ণ নির্বাচন এবং ভাগ্যের চাকার সঠিক ঘূর্ণন প্রতিযোগীদের নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের চূড়ায়।
সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও অক্ষয় কুমারের পদচারণা বেশ পুরনো এবং সফল। ২০০৪ সালে ‘সেভেন ডেডলি আর্টস’ প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে ছোট পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর ‘খতরো কে খিলাড়ি’ অনুষ্ঠানের একাধিক সিজনে তার দুর্ধর্ষ সব স্টান্ট এবং সঞ্চালনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
২০১০ সালে ‘মাস্টার শেফ ইন্ডিয়া’র প্রথম সিজনে তার উপস্থিতি রন্ধনশৈলীভিত্তিক রিয়েলিটি শো-কে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল। এ ছাড়াও ‘ডেয়ার টু ডান্স’ এবং ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে তিনি তার বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, অক্ষয় কুমারের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে এই শো-এর মুখ হিসেবে বেছে নেওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ‘হুইল অফ ফরচুন’-কে ভারতের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শব্দের এই জাদুকরী লড়াই কেবল বিনোদন নয়, বরং বুদ্ধি আর ভাগ্যের এক অনন্য মিশেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে এই শো-এর সম্প্রচার শুরু হবে, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উদ্দীপনার শেষ নেই।

