দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সারাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
এই মাহেন্দ্রক্ষণকে উদযাপন করতে এবং তাঁকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বর্ণাঢ্য মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল। রাজপথে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত মিছিলে তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আয়োজনে এই বিশাল স্বাগত মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে মিছিলটি বনানী কাকলী ফুটওভার ব্রিজের পাদদেশ থেকে শুরু হয়।
মিছিলটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে ঢাকা মহানগর উত্তরের আওতাধীন ২৬টি থানা ও ৭১টি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেতার আগমনের প্রতীক্ষায় আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে স্লোগান দিতে থাকেন।
মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমানের আগমনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের শিকলে তাঁকে বিদেশের মাটিতে থাকতে বাধ্য করা হলেও, জনগণের ভালোবাসা তাঁকে আবারও দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনছে।
যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর আমাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আজকের এই মিছিল মূলত সেই বিশাল সংবর্ধনার আনুষ্ঠানিক পদধ্বনি।” তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলটি সফল করার জন্য উপস্থিত সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে সংগঠনটির সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, “তারেক রহমানের দেশে ফেরার অর্থ হলো গণতন্ত্রের বিজয়। তাঁর উপস্থিতিতে সব ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। আমরা অধীর আগ্রহে ২৫ ডিসেম্বরের অপেক্ষায় আছি, যেদিন আমাদের নেতা রাজধানীর মাটি স্পর্শ করবেন।”
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। দলীয় সূত্রমতে, তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকায় অবতরণ করবেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে পরিবারের সদস্য ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ থাকার কথা রয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে লাখ লাখ নেতাকর্মীর জমায়েত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের মিছিলে মহানগর উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিপু, তসলিম হাসান মাসুম, তানভীর আহমেদ ইকরামসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে এই মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির এক বলিষ্ঠ প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

