ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রসেনানি শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতবরণে উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে ছাত্র-জনতার প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি শহীদ হাদির হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসী আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তবে এই দীর্ঘ লড়াইয়ে কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
ডাকসু ভিপি তার বিবৃতিতে শহীদ ওসমান হাদির আদর্শের কথা স্মরণ করে বলেন, “শহীদ হাদি ভাই কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী বা আধিপত্যবাদী শক্তিকে পরাজিত করতে চাননি। তার লড়াইয়ের মূল হাতিয়ার ছিল মেধা, মনন এবং জ্ঞান। তিনি বিশ্বাস করতেন, বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও নৈতিক দৃঢ়তা দিয়েই অন্ধকারের শক্তিকে উপড়ে ফেলা সম্ভব। আজ তার অনুপস্থিতিতে আমাদের আবেগপ্রবণ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই আবেগকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া হবে তার আদর্শের পরিপন্থী।”
সাদিক কায়েম আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বলেন যে, বর্তমান সংগ্রামটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও সুদূরপ্রসারী। সাময়িক উত্তেজনা কিংবা হঠকারী কোনো কর্মকাণ্ড শহীদ হাদির মহান লক্ষ্যকে অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রতিপক্ষ অত্যন্ত চতুর। তারা চাইবে উসকানি দিয়ে ছাত্র-জনতাকে সহিংসতার পথে ঠেলে দিতে, যাতে আমাদের এই পবিত্র সংগ্রামকে বিতর্কিত করা যায়। যেকোনো ধরনের হঠকারিতা বা অরাজকতা শহীদ ওসমান হাদি এবং আমাদের সামগ্রিক সংগ্রামের অপূরণীয় ক্ষতি করবে। তাই সকল স্তরের ছাত্র-জনতার প্রতি আমার অনুরোধ—কোনো ফাঁদে পা দেবেন না।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শহীদ হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তার দেখানো পথেই ফ্যাসিবাদমুক্ত ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার কাজ অব্যাহত থাকবে। সাদিক কায়েম দেশবাসীকে শহীদ হাদির আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও প্রতিবাদ জারি রাখার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত এবং সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণই শেষ পর্যন্ত আধিপত্যবাদী শক্তির দর্প চূর্ণ করবে।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন কোনো আবেগী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের ঝুঁকির মুখে না ফেলে, সেদিকেই মূলত ডাকসু ভিপি এই বার্তার মাধ্যমে আলোকপাত করেছেন। আজ সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ দেশে আসার পর জানাজা ও পরবর্তী কর্মসূচিতেও এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

