জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রসেনানী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই দলটির পক্ষ থেকে এই শোক বার্তা প্রদান করা হয়। এনসিপির নেতৃবৃন্দ হাদির এই প্রয়াণকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক জরুরি শোক বার্তায় বলা হয়, “আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি আজ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার এই অকাল মৃত্যু কেবল একটি দলের ক্ষতি নয়, বরং এটি পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা।”
শোক বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও রাজনৈতিক অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
শরিফ ওসমান হাদি কেবল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রই ছিলেন না, বরং তিনি গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির একজন অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বৈদেশিক প্রভাব ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি, যার প্রচার চলাকালেই গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
এনসিপির নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো এই জঘন্য হামলা প্রমাণ করে যে, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এখনো সক্রিয়। তারা অবিলম্বে এই হামলার পেছনের মূল হোতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এনসিপি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছালে কেন্দ্রীয়ভাবে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। তার মৃত্যুতে ইনকিলাব মঞ্চ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন জেলা ইউনিটে শোকের প্রতীক হিসেবে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওসমান হাদির মতো একজন ত্যাগী ও লড়াকু নেতার মৃত্যুতে দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে শোকের গভীরতা অত্যন্ত বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীরা এবং সাধারণ নাগরিকরা এই বীর সেনানীকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

