শীতকাল এলেই ত্বকে শুষ্কতার প্রভাব দেখা দেওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়, যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে ও প্রাণহীন। অনেক সময় বাজারজাত কেমিক্যালযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহারের কারণে ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য এবং প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়, যা শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাসায়নিক পণ্যের বদলে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা খুবই কার্যকর হতে পারে। রান্নাঘরে সহজেই পাওয়া যায় এমন তিনটি উপাদান কীভাবে প্রাকৃতিক ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
দুধ কেবল শরীরের অভ্যন্তরীণ পুষ্টির জন্যই উপকারী নয়, এটি ত্বককে বাইরে থেকেও গভীরভাবে আর্দ্রতা প্রদান করে। কাঁচা দুধ ত্বকের স্বাভাবিক কোমলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ এবং ময়লা সহজেই দূর করে।
একটি পরিষ্কার তুলোর বল কাঁচা দুধে ভালোভাবে ভিজিয়ে নিন। এবার সেই তুলো দিয়ে মুখের ত্বকে ধীরে ধীরে বৃত্তাকার গতিতে (circular motion) মাসাজ করুন।
৫-৭ মিনিট মাসাজ করার পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কতা কমে আসবে।
মধুর ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে অনেকেরই জানা থাকলেও, ত্বকের খসখসে ভাব দূর করার জন্য এটি কতটা কার্যকরী, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বকের একাধিক সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় মধু চমৎকার কাজ করে, এটি ত্বককে গভীরভাবে আর্দ্রতা প্রদান করে এবং খসখসেভাব কমিয়ে ত্বককে কোমল ও নমনীয় করে তোলে।
এক চা চামচ মধুর সঙ্গে খুব সামান্য পরিমাণে লেবুর রস (২-৩ ফোঁটা) মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ত্বকে ভালোভাবে মাসাজ করুন। এটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট ত্বকে ওভাবেই রেখে দিন, যাতে ত্বকের গভীরে পুষ্টি পৌঁছাতে পারে।
এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতার পরিবর্তন নিজেই দেখতে পাবেন।
ত্বকের যত্নে আলু বেশ কার্যকরী একটি উপাদান, যা প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সহজে পাওয়া যায়। ডার্ক সার্কেল (চোখের নিচের কালো দাগ) থেকে শুরু করে সানবার্ন (সূর্যের তাপে পোড়া ত্বক) দূর করা পর্যন্ত আলু বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। আলুতে থাকা ক্যাটেকোলেজ (Catecholase) এনজাইম ত্বককে উজ্জ্বল করতে এবং রুক্ষতা কমাতে সহায়তা করে।
প্রথমে একটি আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এরপর আলুটিকে ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই ব্লেন্ড করা আলুর পেস্টটি ত্বকের শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে লাগিয়ে নিন।
মিনিট পনেরো অপেক্ষা করার পর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। আলুর প্রভাব ত্বককে শীতল করে এবং ধীরে ধীরে রুক্ষতা কমিয়ে আনে।

