জীবন একটাই, আর এই জীবনকে অভিজ্ঞতা, সমৃদ্ধি ও আনন্দে ভরিয়ে তোলা আমাদের নিজেদের হাতেই। জীবনে লক্ষ্য অর্জনে এবং মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস ও মানসিকতা প্রয়োজন। এখানে জীবনযাপন সম্পর্কিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হলো, যা আপনাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
অন্যের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা না করে আপনিই প্রথম হাত বাড়ান। আপনিই আগে ফোন করুন, খুদে বার্তা পাঠান, কোনো কিছুর প্রস্তাব দিন, পরিকল্পনা করুন বা উদ্যোগী হোন। অনেকে থাকেন, যাঁরা কেবল তাঁকে কবে, কখন, কে বেছে নেবে—সেই অপেক্ষায় থাকেন। এই অপেক্ষার মানসিকতা পরিহার করে আপনি অন্যের দ্বারা ‘চুজেন’ হওয়ার পরিবর্তে নিজেই ‘চুজার’ বা নির্বাচনকারী হোন।
আপনার জীবনের মূল লক্ষ্যকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন এবং সেই অনুযায়ী প্রতিদিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করুন। হয়তো প্রতিদিন আপনি একই রকম শক্তি বা ‘এফোর্ট’ দিতে পারবেন না, কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিন কিছু না কিছু করুন। গতি কম বা বেশি হতেই পারে, তবে লক্ষ্য থেকে পথ হারানো চলবে না। ধারাবাহিকতাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
প্রতিদিন নতুন নতুন স্মৃতি তৈরি করুন এবং জীবনকে অভিজ্ঞতার আলোকে সমৃদ্ধ করুন। এর জন্য— বই পড়ুন, সিনেমা দেখুন, পার্কে যান, হাঁটুন এবং ফিটনেস ঠিক রাখুন। নিজের কাজের স্থান ও থাকার জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গুছিয়ে রাখুন। নিজের কাজটাকে খুবই গুরুত্ব সহকারে নিন। মানুষের সঙ্গে গল্প করুন এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করুন। যা আছে, তা উপভোগ করুন। টাটকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং খাওয়ার সময় স্ক্রিন দেখা থেকে বিরত থাকুন। নতুন জায়গায় ঘুরতে যান এবং প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু শিখুন। প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটান।
আপনি যা পড়েন, দেখেন, যে ধরনের জীবন যাপন করেন—তার ছাপ আপনার কথোপকথন, চেহারা, শারীরিক ভাষা ও কাজে প্রকাশ হয়ে যায়। এটি একটি সহজ সত্য: আপনি যদি ব্যায়াম করেন, তা আপনার শরীরে অবশ্যই ফুটে উঠবে। আপনি যে রকম খাবার খান, তেমনই অনুভব করবেন। আপনি শৃঙ্খলাবদ্ধ হলে আপনার আত্মবিশ্বাসে তার প্রতিফলন থাকবেই। আপনি কোথায় লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলেছেন, তার প্রকাশ আপনার ফলাফলেই পাওয়া যাবে।
সফল মানুষেরা নিজেদের কাজের বিষয়ে সব সময় ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। অন্যেরা যখন কোনো কাজ কেন হচ্ছে না তার অজুহাত বা ফিরিস্তি দিতে থাকে, সফল মানুষেরা তখন সেই কাজটি অন্য কোনো উপায়ে সফল করা যায় কি না, তার চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁরা কখনোই চেষ্টা করা থামান না এবং সর্বদা নিজেদের ভেতরে আশা বাঁচিয়ে রাখেন।
যদি কোনো নতুন কাজ শুরু করতে চান, তাহলে অপেক্ষায় না থেকে একাই শুরু করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কাল থেকে দৌড়াতে চান, এখনই দৌড়াতে যান; আগেই সঙ্গী খুঁজবেন না। আপনি যখন ধারাবাহিক থাকবেন, তখন দেখবেন পঞ্চম দিন, দ্বাদশ দিন অথবা এক মাসের মাথায় আপনি ঠিকই সমমনা একজনকে আপনার পাশে পেয়ে গেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী মানুষেরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু সৃষ্টি করেন বা তৈরি করেন। তাঁরা সৃষ্টিশীল কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। জীবনে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও সৃষ্টিশীল কাজ তাঁদের বিষণ্নতা থেকে বাঁচায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সতেজ রেখে জীবনের আনন্দ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
সৃষ্টিশীল হওয়ার মানে এই নয় যে আপনাকে সুরই সৃষ্টি করতে হবে বা অনবদ্য একটা ছবি আঁকতে হবে। আপনি— বাগান করুন। সেলাই শিখুন। ইউটিউব দেখে নতুন কোনো পদ রান্না করে ফেলুন।
জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র হলো বর্তমানে বাঁচা। এর অর্থ হলো, অতীত নিয়ে বেশি আফসোস না করে, ভবিষ্যতের অতিরিক্ত চিন্তা না করে আজকের দিনটিকে পুরোপুরি উপভোগ করা ও কাজে লাগানো। এর জন্য—
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিন, দুর্ঘটনা থেকে সাহসী আর শক্তশালী হোন, কিন্তু সেসবে আটকে থাকবেন না। ভবিষ্যতে নেতিবাচক কী ঘটতে পারে, সেই আশঙ্কা করে বর্তমানের সুযোগ নষ্ট করবেন না। বর্তমান হলো একটি উপহার, আর সেটির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে মোটেও পিছপা হবেন না।

