সীমান্তে প্রাণহানি রোধ এবং চোরাচালান দমনে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো দৃশ্যমান ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় সীমান্তে নিহতের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আগামী আগস্টেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ফলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত দুই মাসে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে অপরাধী গ্রেপ্তারের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক।
সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, গত এক বছরে মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ করার হার ৪০ শতাংশ বেড়েছে। পাচারকারীদের হাত থেকে প্রায় ১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে বিজিবি, যা জাতীয় সম্পদ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া মানবপাচার রোধে জনসচেতনতা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার ফলে এই খাতে ২৫ শতাংশ উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ২৬ এপ্রিল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে ১২ হাজার ৪৮৭ মেগাওয়াট। ১ হাজার ৮৬৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ জোনে সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলক সহনীয় ছিল।
জ্বালানি খাতের বড় সুখবর দিয়ে তিনি বলেন, আজ (২৮ এপ্রিল) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা শেষে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ এই কেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। ধাপে ধাপে আগামী জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতা অর্থাৎ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশ এককভাবে এই কেন্দ্র থেকেই পূরণ করা সম্ভব হবে। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ সরাসরি আধুনিক বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে, যা দেশের শিল্পায়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৪ টন ডিজেল মজুত রয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে। অন্যান্য জ্বালানি তেলের মজুতও পর্যাপ্ত রয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের চলমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে এগিয়ে চলছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৯ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দেশের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

