রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা বনানীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেতু ভবন সংলগ্ন এলাকায় ‘ভূঁইয়া পরিবহন’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের আইল্যান্ডে সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বনানী থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে দ্রুতগতির বাসটি মহাখালী থেকে উত্তরা অভিমুখে যাচ্ছিল। সেতু ভবনের সামনে পৌঁছালে বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে উঠে যায়। ধাক্কাটি এতই প্রবল ছিল যে বাসের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহতরা উভয়েই পুরুষ, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে দ্রুত বনানী থানা পুলিশের একটি দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মইনুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের বেপরোয়া গতি দায়ী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাসের চালক ও হেল্পার পালিয়ে গেছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী সামান্য আঘাত পেয়েছেন, তবে ওই দুজনকে ঘটনাস্থলেই নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। জনবহুল এই এলাকায় এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় সড়কের একপাশে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
বর্তমানে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
রাজধানীর সড়কে বেপরোয়া বাস চলাচলের কারণে এমন প্রাণহানি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বনানীর এই দুর্ঘটনাস্থলে আগে থেকেই গতিরোধক বা পর্যাপ্ত সতর্কবার্তার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঘাতক বাসটিকে জব্দ করে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নেওয়া হয়েছে এবং একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

