চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরু থেকেই তপ্ত রোদে পুড়ছে দেশ। সেই উত্তাপের রেশ ধরে এখন দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগের সবকটি জেলাসহ দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি অঞ্চলে এই দহন পরিস্থিতি আপাতত অব্যাহত থাকছে। বুধবার দুপুরে এক বিশেষ বুলেটিনে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এই গুমোট গরমের খবর নিশ্চিত করেন।
আবহাওয়ার মানচিত্র বলছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে তপ্ত বাতাস বয়ে যাচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা খুব একটা কমার লক্ষণ নেই, বরং রাতের দিকে গুমোট ভাব আরও বাড়তে পারে। কাঠফাটা রোদে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন শীতল পরশের খোঁজে আকাশের দিকে তাকিয়ে সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া অফিস অবশ্য সামান্য আশার আলো দেখাচ্ছে সিলেট ও চট্টগ্রামবাসীদের জন্য।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের বেশ কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে হুটহাট বিজলি চমকানো কিংবা বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে আকাশের নীল রঙ ছাড়া বৃষ্টির ধূসর মেঘের দেখা পাওয়া ভার। শুষ্ক আবহাওয়া আর প্রখর রোদই হবে পরবর্তী কয়েকদিনের নিত্যসঙ্গী।
বৃহস্পতিবার সকালের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খানিকটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ দিনের প্রখর তাপ রাতেও খুব একটা কমবে না। বিদ্যমান তাপপ্রবাহ আপাতত সরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
শুক্রবার পর্যন্ত একই রকমের গুমোট পরিবেশ বজায় থাকতে পারে। তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামান্য বৃষ্টির ছিটেফোঁটা দেখা দিতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাকি দেশে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। মূলত এই কয়েকদিন গরমের দাপট কমার চেয়ে বাড়ার পাল্লাই বেশি ভারী থাকবে।
তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে পারে আগামী শনি ও রবিবার নাগাদ। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, শনিবার থেকে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির পরিধি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির ছোঁয়া লাগতে পারে। এরপর রবিবার নাগাদ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে আসবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে আগামী পাঁচ দিনের জন্য। এই সময়ের মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং গরমের দাপট অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসবে। ততদিন পর্যন্ত এই গ্রীষ্মের দাবদাহ সহ্য করা ছাড়া দেশবাসীর সামনে আপাতত ভিন্ন কোনো পথ নেই।

