দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য এক বিশাল কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে সরকার। সারা দেশের সরকারি দপ্তরগুলোর শূন্যপদ পূরণে একযোগে ৫ লাখ জনবল নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেগা নিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানান।
সংসদ অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আগামী ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই স্বল্পমেয়াদী কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে দ্রুততম সময়ে ৫ লাখ নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্তমানে কেবল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তরগুলোতেই ২ হাজার ৮৭৯ জনের নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি পদগুলোতে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থানের দাবি পূরণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেবল কর্মসংস্থানই নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বড় ঘোষণা দিয়েছেন সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় উচ্চগতির ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ সেবা চালু করা হবে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও বৈশ্বিক মানের অনলাইন শিক্ষা উপকরণের নাগাল পাবে, যা শিক্ষার গুণগত মানে আমূল পরিবর্তন আনবে।
তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় বিশাল খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও সংসদে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা আয়তনের উন্মুক্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করা হবে। এই মাঠগুলো নির্ধারণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি বর্তমানে পুরোদমে কাজ করছে। এর ফলে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই কিশোর-কিশোরীদের খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে ‘ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসা’র ক্ষেত্রে বড় ধরণের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি জানান, জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এখন থেকে ভিসা পাওয়ার আগেই যোগ্যতার প্রমাণপত্র বা সিওই (COE) দেখিয়ে এই ঋণ পাওয়া অনেক সহজ হবে। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের বিদেশে গিয়ে ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ আরও সুগম হবে।
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলোকে বিশ্লেষকরা একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘কর্মমুখী’ প্রশাসনের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে বিশাল নিয়োগ এবং শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে এই আধুনিকায়ন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ১৮০ দিনের এই সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন প্রমাণ করে যে, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অত্যন্ত তৎপর।
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। ৫ লাখ নিয়োগের এই বিশাল প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা এখন প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা। তবে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রশাসনে নতুন রক্ত সঞ্চার করে সেবার মানোন্নয়নে তারা কোনো আপস করবে না।

