স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তাঁর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি সিদ্ধান্ত বহু মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে, তাই সকলকে অবশ্যই সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এই দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সম্মানে এক আন্তরিক বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনকালে কর্মক্ষেত্রে গতিশীলতা আনা, সেবার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব ও অঙ্গীকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া তাঁর আবেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা আমার কাজকে সত্যিই সহজ করেছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, “দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমরা একসঙ্গে চালিয়েছি, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য এবং সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধানসহ সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি কেবল বিদায় অনুষ্ঠান নয়, এটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনুষ্ঠান।” তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও জনবান্ধব করার জন্য উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা মন্ত্রণালয়ের কাজে নতুন গতি ও স্বচ্ছতা এনেছে। তাঁর নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ বিশেষভাবে অগ্রগতি লাভ করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মহানায়ক আসিফ মাহমুদ শুধুই একজন উপদেষ্টা নন, তিনি একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর ক্যারিশমাটিক লিডারশিপ এবং ব্যতিক্রমী স্মৃতিশক্তি (ফটোজেনিক মেমোরি) কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি কাজে পরিলক্ষিত হয়েছে।” সচিব মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপদেষ্টার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং তাঁকে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো পদে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি পেশাদার ও আন্তরিক পরিবেশে শেষ হয়, যেখানে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জনসেবায় অবদানকে সম্মান জানানো হয়।

