রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন সরকারপ্রধান। মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি প্রত্যয়ী কণ্ঠে ঘোষণা করেন, এই সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটানো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সরকার জনগণের সরকার। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, মা-বোন কিংবা মসজিদের ইমাম—সবার সুখ-দুঃখে পাশে থাকাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।” বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি সরকারের মূলমন্ত্র পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তার এই আহ্বানে স্টেডিয়াম জুড়ে উপস্থিত হাজারো মানুষের মাঝে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যে কৃষি, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সাথে জড়িত। পরোক্ষভাবে ৪ কোটি পরিবারের কেউ না কেউ এই মাটির সঙ্গেই মিশে আছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, তবেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এটাই ধ্রুব সত্য।”
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা ও ভর্তুকি সরাসরি ভোগ করতে পারবেন।
কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। বর্ষার অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষমতায়ন নিয়েও সরকারের বিশেষ আগ্রহের কথা ফুটে ওঠে তার বক্তব্যে। তারেক রহমান বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার। আল্লাহর রহমতে সেই পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারের কাছে এই কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, এখন আর কেবল রাজনীতির সময় নয়, এখন দেশ গড়ার সময়। নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তারেক রহমানের এই টাঙ্গাইল সফর এবং কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগকে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন কৃষকের হাতে প্রতীকী কার্ড তুলে দেন। দীর্ঘ খরা আর আন্তর্জাতিক সংকটের মাঝে সরকারের এই সরাসরি সহায়তা প্রান্তিক চাষীদের মনে নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী আবারও মনে করিয়ে দেন, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নই বিএনপির রাজনীতির শেষ কথা। সব মিলিয়ে বৈশাখের এই তপ্ত দুপুরে টাঙ্গাইল যেন হয়ে উঠেছিল আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের এক ছোট প্রতিচ্ছবি।

