রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য যেন থামছেই না। এবার দিনের আলোয় জনসমক্ষেই এক পাঠাও ডেলিভারিম্যানকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব লুটে নিয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। পৃথক আরেকটি ঘটনায় মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং এলাকায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে আদাবরের শ্যামলী হাউজিং ২য় প্রকল্প এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী রমজানুল ইসলাম পেশায় একজন পাঠাও ডেলিভারিম্যান। তিনি জানান, বিকেলে একটি টি-শার্ট ডেলিভারি দিতে ওই এলাকায় গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছিনতাইকারীরা সামুরাই দিয়ে তাকে আঘাত করতে শুরু করে।
রমজানুল ইসলামের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এই নৃশংসতা চললেও আশপাশের দোকানদার বা পথচারীদের কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা ডেলিভারির জমানো ৭০ হাজারেরও বেশি টাকা এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। পরে এক পথচারীর সহায়তায় ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রমজানুল বলেন, “এই ডেলিভারির আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। ছিনতাইকারীরা আমাকে পথে বসিয়ে দিয়ে গেল।”
অন্যদিকে, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং এলাকায় মো. রিপন নামে এক ব্যক্তি একইভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ ২-৩ জন ছিনতাইকারী এসে তার পায়ে সামুরাই দিয়ে কোপ দেয়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আরও ৫-৬ জন মিলে তাকে ঘিরে ধরে কুপিয়ে আহত করে এবং তার মোবাইল ও টাকা নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে শনিবার তিনি মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এই পর পর দুটি ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাউজিং প্রকল্পগুলোর নির্জন রাস্তাগুলোতে অপরাধীদের অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মোহাম্মদপুরের ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তবে পাঠাও ডেলিভারিম্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থানায় পৌঁছেনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রাজধানীর এই জনবহুল এলাকায় ছিনতাইকারীদের এমন বেপরোয়া আচরণ ঠেকাতে পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা এখন সময়ের দাবি।

