রাজধানীর উত্তরা সংলগ্ন তুরাগের রানাভোলা এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বিশাল এক বসতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আব্দুর রহমান হাই স্কুলের পার্শ্ববর্তী একটি বস্তিতে আগুন লাগলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের ঝটিকা অভিযানে প্রায় ৫০ মিনিটের মাথায় আগুনের বিস্তার থামানো সম্ভব হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে প্রথম আগুনের খবর আসে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং স্থানীয়দের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর পাওয়ার পরপরই উত্তরা ও পার্শ্ববর্তী স্টেশনগুলো থেকে একে একে পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার ফাইটারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “আমাদের কর্মীরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে কাজ করেছেন। বস্তিটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। কিন্তু সময়মতো ইউনিটগুলো পৌঁছানোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।”
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট নাকি রান্নার চুলা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত—তা খতিয়ে দেখছেন ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বস্তির বেশ কিছু ঘর ও আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ‘ডাম্পিং’-এর কাজ করছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকা কোনো স্ফুলিঙ্গ থেকে পুনরায় আগুন না জ্বলে ওঠে।
রানাভোলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আকাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। আব্দুর রহমান হাই স্কুলের কাছে হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছিল। তবে আগুন স্কুল ভবন পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ডাম্পিং শেষ হলে এবং তদন্ত রিপোর্ট হাতে এলে আগুনের উৎসের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও আজকের এই দ্রুত হস্তক্ষেপ বড় ধরনের ট্র্যাজেডি রুখে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

