মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের উত্তাপে টালমাটাল বিশ্ব জ্বালানি বাজার। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রাজধানীর ঢাকাসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে (অফলাইন) এবং তিন দিন অনলাইন বা ভার্চুয়াল ক্লাসের একটি নতুন প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যদিও প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো কাটাছেঁড়া চলছে, তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই পরিকল্পনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার আলোকেই জ্বালানি সাশ্রয়ে এই ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র পদ্ধতির পাঠদান চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের নিয়ে একটি জরুরি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দীর্ঘ ছুটির কারণে তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি পূরণের ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ক্লাস চলবে। তবে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে তিন দিন শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে অনলাইনে ক্লাস করবে।
এই পদ্ধতিটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু বিকল্প প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে জোড়-বিজোড় তারিখ অনুযায়ী ক্লাস ভাগ করা অথবা শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসে ডাকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে যে, অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সেখান থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করতে হবে।
যান্ত্রিক বা হাতে-কলমে শেখার বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞানসহ যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক বা ল্যাবরেটরি কাজ প্রয়োজন, সেগুলোর ক্লাস সরাসরি ল্যাবে গিয়েই সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে যেখানে ট্রাফিক জট এবং জ্বালানি ব্যবহারের মাত্রা বেশি, সেখানে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে আগে চালু করা হতে পারে।
জ্বালানি সংকটের কারণে কেবল যাতায়াত নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও এই পরিকল্পনার একটি বড় লক্ষ্য। শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, “আমরা প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে চাই, আবার একই সঙ্গে বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশের সম্পদের অপচয়ও রোধ করতে চাই।”
আপাতত এই পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে শুরু করার চিন্তা করা হচ্ছে। যদি এটি সফল হয় এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থায়ী রূপ পেতে পারে। এখন সবার নজর বুধবারের প্রজ্ঞাপনের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর ক্লাসরুমের ভবিষ্যৎ।

