বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে এক অভিনব উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে সাজানো এই আয়োজনটি এবার কেবল সাংস্কৃতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠের লড়াইয়ে রূপ নিতে যাচ্ছে।
সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই নতুন যাত্রার কথা জানান। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী খেলোয়াড়দের সম্মাননা প্রদান এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও নিয়মিত ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৬ সালে শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে যে ‘নতুন কুঁড়ি’ শুরু হয়েছিল, তা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বিটিভিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে এবার সরকার কেবল গান বা নাচে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলাকেও এই কাঠামোর আওতায় আনছে। দেশের প্রতিটি কোণ থেকে সেরা ক্রীড়াবিদদের তুলে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে খেলাধুলা আর কেবল বিনোদন বা শখ নয়; এটি এখন সম্মানজনক এক পেশা। বাংলাদেশকেও এই বিশ্বজনীন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার সরকার ক্রীড়াকে একটি স্থায়ী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।
“আমরা নির্বাচনের সময় ইশতেহারে বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে খেলোয়াড়দের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করবে,” উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই ভাতা প্রদান এবং বেতন কাঠামোর উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই আনুষ্ঠানিক সূচনা।”
সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার মূল বিশেষত্ব হলো খেলোয়াড়দের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা ভিত্তিক বেতন কাঠামো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন খেলোয়াড় যে খেলায় পারদর্শী, তিনি যেন কোনো ধরনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ছাড়াই সেটিকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন। অভাব বা অনটনের কারণে কোনো প্রতিভাকে যেন অকালে ঝরে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করবে এই রাষ্ট্রীয় বেতন ব্যবস্থা।
তারেক রহমান আরও যোগ করেন, “আমরা চাই একজন অ্যাথলেট যেন নিশ্চিন্তে তার খেলায় মনোযোগ দিতে পারেন। তার এবং তার পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন থেকে সরকারের দায়িত্ব। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা খেলোয়াড়দের নিয়মিত বেতনের আওতায় আনছি, যা আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।”
সিলেট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এখান থেকে উঠে আসা প্রতিভাবানদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে এমন প্রতিভা অন্বেষণ এবং খেলোয়াড়দের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করায় দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের কিশোর-কিশোরীরা এখন থেকে খেলাধুলাকে ভবিষ্যৎ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখার সাহস পাবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশের নামকরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থাকলে বাংলাদেশের তরুণরা বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

