কুমিল্লার আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে দেবিদ্বার থেকে চান্দিনা পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটিকে প্রশস্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়েতে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সিলেটের যাতায়াত দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে আসবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও সময় সাশ্রয়ে বিশাল ভূমিকা রাখবে।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি ৭১) নোটিশের ওপর আলোচনাকালে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, এই সড়কটি কেবল একটি আঞ্চলিক পথ নয়, বরং এটি দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করতে পারে।
সরু সড়কের ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগ
নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের দুর্ভোগ তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “দেবিদ্বারের ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে এই সংসদে পাঠিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকেই আমি আজ এই দাবি জানাচ্ছি। দেবিদ্বার থেকে চান্দিনা পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাস্তাটি এতই সরু যে বর্তমানে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা একসঙ্গে পার হতে পারে না। ফলে প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় যাতায়াতের এমন বেহাল দশা স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাইওয়ে হলে খুলবে অর্থনৈতিক দুয়ার
সাংসদ তাঁর বক্তব্যে সড়কটি হাইওয়ে করার বহুমুখী সুফলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ওই এলাকার ১১টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে এই রাস্তাটি চলে গিয়েছে। এটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করা সম্ভব হলে ওই ইউনিয়নগুলোতে বড় বড় শিল্পকারখানা এবং কৃষিভিত্তিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা সহজ হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, “যেহেতু এই সড়কটি সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাই এটি হাইওয়েতে রূপান্তর করলে ঢাকা থেকে সিলেটগামী যানবাহনগুলো সহজেই বিকল্প পথ হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারবে। এতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে, যা জ্বালানি সাশ্রয় এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে সহায়ক হবে।”
স্পিকারের প্রতি আবেগঘন মন্তব্য ও ‘নিয়মের রোলার’
বক্তব্যের একপর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং স্পিকারের উদ্দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “স্পিকার, আপনার যে অনুভূতি হচ্ছে, আমারও একই ধরনের অনুভূতি। কারণ নিয়মের বেড়াজালে আপনাকে যেমন আটকে দেওয়া হয়, আমাকেও কখনো কখনো আটকে দেওয়া হয়।”
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ও সংসদীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছুটা রূপক অর্থে বলেন, “আসলে নিয়ম হচ্ছে অলওয়েজ রোলার; যারা তাদের অনুসারী, নিয়মটা সেভাবেই চলে। আবার যখন সেটা বিরুদ্ধে যায়, তখন সেটাকে বলা হয় ‘কাস্টম’ বা প্রথা। আমাদের যেন কোনো সাংবিধানিক মারপ্যাঁচের মধ্যে রাখা না হয়।” তাঁর এই মন্তব্য সংসদ কক্ষে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়।
অবশেষে হাসনাত আবদুল্লাহ স্থানীয় জনগণের যাতায়াত সহজ করতে এবং জাতীয় স্বার্থে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কটিকে দ্রুত হাইওয়ে হিসেবে ঘোষণা ও কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

