২৬ মার্চ, ২০২৬। বাংলার আকাশে আজকের সূর্যটি উদিত হয়েছে এক অনন্য গৌরবের আভা নিয়ে। ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সাভারের স্মৃতিসৌধ এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায়। ঠিক সকাল ৬টায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তারা ধীরপদে মূল বেদীর দিকে এগিয়ে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন (গার্ড অব অনার) প্রদান করে। বিউগলে বেজে ওঠে করুন সুর, যা উপস্থিত সবার মনে একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, সাভারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ৭টার মধ্যে তিনি রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর সকাল পৌনে ১০টায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বর্ণাঢ্য ‘কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে’ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনীর শৌর্য-বীর্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বাণী প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি দেশের ভেতরে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম মানচিত্র পেয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও যোগ করেন, “একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকল মানুষের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আজ এই বিশেষ দিনে আমি সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করছি।”
স্মৃতিসৌধের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাধারণ মানুষের ঢল নামে সাভারে। হাতে লাল-সবুজের পতাকা আর বুকে শোকের কালো ব্যাজ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকরা সারিবদ্ধভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।
স্বাধীনতা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে পুরো দেশ আজ উৎসব আর শোকের এক অন্যরকম আবহে নিমজ্জিত। ৫৪ বছর আগে যে অকুতোভয় জাতি বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল, আজ সাভারের এই কংক্রিটের স্মৃতিস্তম্ভ যেন সেই ত্যাগেরই এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

