“অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা অন্যায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস নেই”— পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এভাবেই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
প্রতিবছর ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নেয় অন্তহীন যানজট আর অব্যবস্থাপনায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে অনেকের ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগও মেলে না। আইজিপি জানান, এবার সেই চিরচেনা ভোগান্তি দূর করতে বাংলাদেশ পুলিশের সব কটি ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেন হয় সহজ ও নিরাপদ, সেটিই এখন পুলিশের প্রধান অগ্রাধিকার।
ট্রাফিক সচেতনতায় ‘কমনসেন্স’ প্রয়োগের আহ্বান
সড়কে যানজটের জন্য কেবল যানবাহনের আধিক্য নয়, বরং চালক ও সহকারীদের খামখেয়ালিকেও দায়ী করেছেন পুলিশ প্রধান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “অনেক চালক বা হেলপার ট্রাফিক আইন মানতে চান না। সড়কের মাঝখানে গাড়ি রেখে চলে যাওয়ার সময় তারা ভাবেন না যে পেছনে শত শত গাড়ি আটকে যাচ্ছে। একটু ‘কমনসেন্স’ বা কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করলেই এই জটলা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।”
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভার নির্দেশনা অনুযায়ী এবার প্রতিটি মোড় ও বড় বাজার এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ শুধু একাই নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুধী সমাজকেও সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বলে জানান মো. আলী হোসেন ফকির।
টার্মিনালে নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন
গাবতলীর মতো ব্যস্ত টার্মিনালগুলোতে কেন এত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা— এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “টার্মিনাল কেন্দ্রিক মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য থাকে। সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি। একে নেতিবাচকভাবে নেওয়ার কিছু নেই; বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
রাজধানীর যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ বাস কাউন্টার নিয়েও নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শহরের ভেতরে দূরপাল্লার কাউন্টার না রাখার বিষয়ে সোচ্চার। আইনের মাধ্যমেই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আইন জানা নাগরিক দায়িত্ব
টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য রাখা হলেও যাত্রীরা কেন অভিযোগ করছেন না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি কিছুটা কঠোর স্বরেই বলেন, “দেশের প্রচলিত আইন জানা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। আমি আইন জানি না— এই অজুহাত দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। কেউ যদি অন্যায়ভাবে বেশি ভাড়া নেয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করুন। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।”
পরিদর্শনকালে আইজিপির সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের এই তৎপরতা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

