দেশের এক ক্রান্তিকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য এখন সংসদীয় কমিটির হাতে। রোববারের সংসদ অধিবেশনে এই বিশাল সংখ্যক অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি মেনেই এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ।
বিকেলে অধিবেশন শুরু হলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সংসদের সামনে উত্থাপন করেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে যে অধ্যাদেশগুলো জারি হয়েছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে সংসদে পেশ করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে এগুলোর প্রতিটি ধারা ও উপধারা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা অপরিহার্য।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তিনি প্রস্তাব করেন যে, এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ সেই কমিটির কাছেই ন্যস্ত করা হোক। মন্ত্রী কেবল যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবই দেননি, বরং কাজের গতি নিশ্চিত করতে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আইনমন্ত্রীর এই প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে তা সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষের সম্মতিতে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর ফলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কমিটির টেবিলে। কমিটির সদস্যদের ওপর এখন বিশাল দায়িত্ব, কারণ এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে গত কয়েক মাসের প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করার আগে সংসদীয় পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেমন আইনের বৈধতা নিশ্চিত হয়, তেমনি কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। আগামী ২ এপ্রিল কমিটি যখন তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে, তখন জানা যাবে এই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কোনগুলো হুবহু বহাল থাকছে আর কোনগুলোতে আসছে পরিবর্তন।
সংসদীয় এই বিশেষ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের অভিজ্ঞ আইনপ্রণেতারা রয়েছেন। ফলে প্রতিটি অধ্যাদেশের চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা কমিটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, আইনমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে সংসদীয় স্বচ্ছতার দিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


1 Comment
For my Brazilian amigos, P9betbr seemed solid enough. Decent selection of sports and casino games. Easy to navigate. Give it a look if you’re feeling lucky: p9betbr