এক নতুন রাজনৈতিক আবহে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশনে সংসদীয় কার্যক্রমের সূচনা করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর পালাবদলের পর এই সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। প্রথম দিনের কার্যসূচিতে কেবল রাষ্ট্রপতির ভাষণই নয়, বরং আইনি কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় প্রক্রিয়ার সূচনা হতে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে ১৩৩টি বিভিন্ন অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে।
বিগত সময়ের বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ছিল। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিই নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেবে কোন অধ্যাদেশগুলো স্থায়ী আইনে পরিণত হবে আর কোনগুলো বাতিল বা ‘ল্যাপস’ হয়ে যাবে।
সংসদের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়েও আজ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। বর্তমানে সংসদে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে অধিবেশনের একেবারে শুরুতে প্রথা অনুযায়ী একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য সভাপতিত্ব করবেন। এরপর সংসদ নেতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলছেন না নীতি-নির্ধারকরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পূর্ণ এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে নতুন সংসদের অভিভাবক হিসেবে কারা দায়িত্ব নিচ্ছেন।
এর আগে আজ সকালে সংসদ ভবনের সরকারি দলীয় সভাকক্ষে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সাথে আগামীকালের অধিবেশনের রণকৌশল এবং সংসদীয় কার্যক্রমের শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
দীর্ঘদিন পর সংসদ ভবন আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে। অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে সংসদ চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা, এই ত্রয়োদশ সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং আইনি সংস্কারের পথে এক কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। প্রথম দিনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনের বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে।
আগামীকাল রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এখন সবার নজর সংসদ ভবনের মূল হলের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে আগামীর আইনের গতিপথ।

