বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে বিদেশে গমনেচ্ছু যুবকদের জন্য দেশেই বিশেষায়িত ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তারা ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আরও ভালো মানের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত কমিটির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু জনশক্তি পাঠানোই লক্ষ্য নয়, বরং ‘দক্ষ জনশক্তি’ পাঠানোই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি দেশি ও বিদেশি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সমন্বয়ে এই ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিচালনার তাগিদ দেন। এর ফলে তরুণরা যে দেশে কাজ করতে যাবে, সেই দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগেভাগেই সম্যক ধারণা নিয়ে যেতে পারবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, বিদেশে যাওয়ার খরচ মেটাতে গিয়ে কোনো কর্মীকে যেন নিজের শেষ সম্বল বা ভিটেমাটি বিক্রি করতে না হয়। এই সংকট সমাধানে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং সহজতর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন এবং মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবা বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এক বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত এবং সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে এখন থেকে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ সেবা চালু করা হবে। প্রবাসীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দাবি পূরণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা: ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির সংস্কার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনের একটি ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালের নিকটবর্তী একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী মন্দির সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
আগামী শনিবার সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংস্কার কাজ শুরু হবে। এই কর্মসূচিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম ও শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ঢাকা-১৭ আসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন সমন্বয়কারী অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বহুমুখী নির্দেশনাগুলো দেশের কর্মসংস্থান খাতে যেমন গতি আনবে, তেমনি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

