নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল উচ্চ আদালত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ৫টি মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট হৃদয় রহমান। শুনানিতে তারা আইভীর শারীরিক অবস্থা এবং মামলার মেরিট বিবেচনায় জামিনের জোর দাবি জানান। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে ৫টি মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত নভেম্বর মাসেও পোশাকশ্রমিক মিনারুল হত্যাসহ ৫টি মামলায় আইভীকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে সেই জামিন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি; আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর তাকে পুনরায় এই মামলাগুলোতে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছিল। গত মে মাসেও নিম্ন আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আজ আবারও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন তিনি।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম। এই ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই নাজমুল হক। ওই মামলায় ১২ নম্বর আসামি হিসেবে সাবেক মেয়র আইভীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের টানা তিনবারের মেয়র আইভী বরাবরই দাবি করে এসেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে এই মামলাগুলোতে জড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছিলেন বলেও তার অনুসারীরা দাবি করেন। দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি বা আইনি জটিলতায় থাকার পর আজকের এই জামিন আদেশের মাধ্যমে তার কারামুক্তির পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন তার আইনজীবীরা।
আদালত প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আইভী একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সবসময় জনগণের সেবা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সুনির্দিষ্ট নয়। হাইকোর্ট সবকিছু পর্যালোচনা করেই তাকে জামিন দিয়েছেন।” তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি শক্তিশালী নাম। ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে যে গণমামলা হয়েছে, আইভী ছিলেন তার অন্যতম প্রধান টার্গেট। আজকের এই আদেশের পর তার অনুসারী ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, কারামুক্তির পর তিনি কীভাবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেন।

