দেশের স্থবির হয়ে পড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রাণসঞ্চার করতে ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পথরেখা স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ছয়টি সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসকদের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি জানান, যেসব সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোট হবে।
নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারো মেয়াদ শেষ হবে, আবার নির্বাচন হবে—এভাবেই ধাপে ধাপে আমরা এগোব। তবে ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের আগেই অন্য দুটি সিটিতে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো কি দলীয় প্রতীকে হবে? এই বিষয়ে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট কোনো ব্যক্তিগত মত না দিয়ে বিষয়টি জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
প্রশাসক পদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জনগণের পালস বেশি বোঝেন। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকলে নাগরিকরা দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন। এতে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় হবে।”
এর আগে ঢাকা দক্ষিণসহ ছয়টি সিটির নবনিযুক্ত প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে তাদের যোগদানপত্র জমা দেন। দায়িত্ব নিয়েই তারা নগরবাসীকে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছেন। বিশেষ করে মশা নিধন, অসহনীয় যানজট নিরসন এবং ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামতের অঙ্গীকার করেছেন তারা।
নতুন প্রশাসকরা জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ৬০ দিনের জন্য তারা একটি বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বা স্বল্পমেয়াদী কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ভোগান্তি লাঘব করাই হবে এই ৬০ দিনের মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার যে সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রথা বাতিল বা বহাল রাখার বিষয়টি এখন সংসদের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

