দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। সাধারণ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৯ এপ্রিল এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছুউদ এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কমিশনের সভায় নির্বাচনের তারিখ ও সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বিকেলেই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত সময়সূচী বা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হতে পারে।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি শোকাবহ ঘটনা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও এই আসনটিতে নির্বাচন থমকে যায়। ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী কমিশন সেখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হলে সেখানে নতুন করে তফসিল ঘোষণার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য হয়েছে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন ছেড়ে দেওয়ার কারণে। তিনি সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—এই দুটি হাই-প্রোফাইল আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী একজন সদস্য একাধিক আসনে বিজয়ী হলে তাকে একটি আসন বেছে নিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসন থেকে পদত্যাগ করেন। স্পিকার কর্তৃক আসনটি শূন্য ঘোষণার পর ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই এই ভোটের আয়োজন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাস এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের বিষয়টি মাথায় রেখেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে উৎসবের আমেজে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে। বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসনে নতুন করে প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ থাকায় সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দুটি আসনের উপনির্বাচন বর্তমান সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে কে নৌকার বা ধানের শীষের হাল ধরবেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া ভোট দ্রুত শেষ করে জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চায় কমিশন।
এখন কেবল অপেক্ষা ইসি সচিবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। ঈদের আনন্দ আর নির্বাচনী লড়াই—সব মিলিয়ে এপ্রিলের শুরুটা যে বেশ সরগরম থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

