রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে মশামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও সবুজে ঘেরা বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নবনিযুক্ত সিটি প্রশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নবনিযুক্ত ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৭ বছরের অচলায়তন ভেঙে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসায় জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। বিশেষ করে মশক নিধন এবং নাগরিক ভোগান্তি কমানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রায় অকার্যকর ছিল। বিগত দিনে নির্বাচনহীন সংস্কৃতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হয়েছিল, ফলে জনগণের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত হয়নি। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া।”
প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রশাসক আরও বলেন, “শহরের মশা নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বনায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন সিটি উপহার দিতে আমাদের কাজ করতে বলা হয়েছে। নাগরিকরা যেসব সমস্যার কথা এতদিন বলতে পারেননি, সেগুলো শোনা এবং দ্রুত সমাধান করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
সামনে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর। উৎসবের এই মৌসুমে সাধারণ মানুষের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা—সবকিছুই এখন সিটি প্রশাসকদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর তারা পূর্ণোদ্যমে কাজে নামছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেসব সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়, সেগুলো সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা হবে। জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে সিটি কর্পোরেশনকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের লক্ষ্য।
নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, প্রশাসকদের এই নতুন দায়িত্ব পালন এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা শহরগুলোর স্থবিরতা কাটাতে সহায়ক হবে। তবে রমজানের ভিড় ও মশার উপদ্রব মোকাবিলায় তারা কত দ্রুত মাঠ পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

