জনগণের ‘পাহাড় সমান’ প্রত্যাশা কাঁধে নিয়ে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবস শুরু করেছেন নবনিযুক্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি জানান, গত ১৭ বছরের সংগ্রাম এবং বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে।
তিনি স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা ও আইনি অসংগতির পর মানুষের মনে যে বিশাল আশার সঞ্চার হয়েছে, তা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি নিরন্তর কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের নতুন পথচলা
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক লড়াই এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের চেতনা আমাদের প্রতিটি আইনি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ও স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করাই হবে তার অগ্রাধিকার।
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আইনের অপব্যবহার রোধ
বিগত সময়ের বিভিন্ন স্পর্শকাতর মামলা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।
তবে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আইনের অপব্যবহার আমরা কঠোরভাবে রোধ করব। অতীতের কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যদি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে সেটি খতিয়ে দেখা হবে। আইন যেন কারও ওপর অবিচার করার হাতিয়ার না হয়, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর থাকবে।”
সংবিধান সংস্কার ও দলীয় অবস্থান
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি সরাসরি কোনো বিতর্ক তৈরি না করে জানান, এ বিষয়ে দলের মুখপাত্র ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং তার ব্যক্তিগতভাবে নতুন কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।
প্রথম দিনেই আইনমন্ত্রীর কথায় প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার ফুটে উঠেছে। আদালত ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব শেষ করে তিনি দ্রুত ঝুলে থাকা আইনি সংস্কারের ফাইলগুলোতে মনোনিবেশ করেন।

