রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে এখন সাজ সাজ রব। দীর্ঘ দেড় দশক পর নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর তার এই নতুন দাপ্তরিক পথচলাকে সামনে রেখে প্রশাসনের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে আসবাবপত্র বিন্যাস—সব মিলিয়ে চারদিকে এক উৎসবমুখর কিন্তু ভীষণ ব্যস্ত পরিবেশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। নতুন প্রধানমন্ত্রীর বসার ঘরটি ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হচ্ছে। শুধু প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কক্ষই নয়, তার সংলগ্ন সম্মেলন কক্ষ এবং স্টাফদের বসার জায়গাগুলোও নতুন করে সাজানো হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলে কারিগরি সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন প্রকৌশলীরা, যাতে বুধবার প্রথম কার্যদিবসে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শুরু হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সূচি। দিনের শুরুতেই তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সচিবালয়ে তার নির্ধারিত দপ্তরে প্রথম অফিস করবেন। সেখানে তিনি প্রথমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
দুপুরের খাবারের পর বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের প্রথম বিশেষ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক। এই বৈঠকেই হয়তো দেশের আগামী দিনের জরুরি সংস্কার ও প্রশাসনিক রোডম্যাপ নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান। এরপর বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমেই মূলত নতুন সরকারের প্রশাসনিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে।
সচিবালয় ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ভবনের সামনে রঙিন ফুলের টব সাজানো হয়েছে, বাগানগুলো নতুন করে পরিচর্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ দর্শনার্থী প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে বাড়তি পাহারা। শুধু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরই নয়, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বরণ করে নিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়েও চলছে প্রস্তুতি। কর্মকর্তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের নতুন বিভাগীয় প্রধানদের স্বাগত জানাতে।
নবনির্বুক্ত মন্ত্রিসভার সদস্যরাও বুধবার তাদের নিজ নিজ দপ্তরে যোগ দেবেন। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব শেষ করে তারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন। সব মিলিয়ে সচিবালয়ের আমলাতান্ত্রিক গাম্ভীর্যের মাঝেও এখন এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা কাজ করছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান। এই শপথের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তার প্রশাসনিক বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে বুধবারের এই কর্মদিবসের মাধ্যমে।

