আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন এই সময়সূচিতে মেট্রোরেল চলাচলের ব্যাপ্তি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোজাদার যাত্রীদের সুবিধার্থে ইফতারের সময় বিশেষ কিছু নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রমজানের প্রথম দিন থেকেই উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্রেনটি ছেড়ে যাবে সকাল সাড়ে ৬টায়। অন্যদিকে, রাতের শেষ ট্রেনটি উত্তরা থেকে ছাড়বে ৯টা ৩০ মিনিটে। মতিঝিল প্রান্ত থেকেও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে প্রথম ট্রেন মিলবে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং দিনের শেষ যাত্রা শুরু হবে রাত ১০টা ১০ মিনিটে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনটি এসেছে ট্রেনের ভেতরে খাবার ও পানীয় গ্রহণের নিয়মে। মেট্রোরেল ও স্টেশন চত্বরে যেকোনো ধরনের খাবার খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও, রমজান উপলক্ষে ইফতারের জন্য যাত্রীরা সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিলিটারের একটি পানির বোতল সাথে রাখতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, পানি যেন ট্রেনের মেঝেতে না পড়ে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে এবং খালি বোতলটি অবশ্যই স্টেশনের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
রমজানের অফিস সূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ট্রেনের মধ্যবর্তী বিরতি বা ‘হেডওয়ে’ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ার) যাত্রীরা প্রতি সাড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট অন্তর ট্রেন পাবেন। তবে সকালের প্রথম দিকে এবং রাতের শেষ ভাগে এই বিরতি ৮ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে অফিস ছুটির পর ইফতারের আগে এবং পরে যাত্রীদের ভিড় সামলাতে এই বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সি কার্যকর থাকবে।
উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী যাত্রীরা সকাল ৮টা ১১ মিনিট থেকে ৯টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত সবচেয়ে ঘন ঘন ট্রেন পাবেন। আবার বিকেলের দিকে ২টা ৫৭ মিনিট থেকে ৫টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট বিরতিতে ট্রেন চলবে। একইভাবে মতিঝিল থেকে উত্তরা অভিমুখী ট্রেনের ক্ষেত্রেও বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এই দ্রুতগতির সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমটিসিএল স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, পানি ছাড়া অন্য কোনো শক্ত খাবার বা পানীয় স্টেশনে বা ট্রেনের ভেতরে গ্রহণ করা যাবে না। প্ল্যাটফর্ম এবং কনকোর্স এরিয়ার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি। এই বিশেষ নিয়ম কেবল রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবারের ট্রেনের সময়সূচিতে আপাতত কোনো পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আগের নিয়মেই ট্রেন চলাচল করবে। তবে অফিসকামী যাত্রীদের জন্য রমজানের এই নতুন সূচি যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর কর্মজীবী মানুষের একটি বড় অংশ এখন যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেলের ওপর নির্ভরশীল। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে যারা পথিমধ্যে থাকবেন, তাদের জন্য ২৫০ মিলিলিটার পানির এই অনুমতি বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। স্টেশনের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং আধুনিক এই গণপরিবহনকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যাত্রীদের নিয়ম মেনে চলার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এই নির্দেশনা জারির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ইফতারের সময় পানির বোতল বহনের সুযোগ দেওয়ায় ডিএমটিসিএল-এর মানবিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা। তবে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ছাড়া অন্য কোথাও ময়লা ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

