বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতকরণে সাংবাদিকদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবাদিকদের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় কানাডা ক্লাবে ‘মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি)’-এর সঙ্গে এক ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার অজিত সিং এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, একটি সমাজের জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য অবাধ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা অত্যাবশ্যক।
তিনি স্পষ্ট করেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্র এবং সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। সমাজকে উন্মুক্ত, সচেতন এবং জবাবদিহিতামূলক রাখার জন্য সাংবাদিকতা অপরিহার্য।”
অজিত সিং উল্লেখ করেন যে, কানাডা সবসময় মুক্ত, নিরাপদ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে। তাঁর মতে, সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজকে শক্তিশালী করে এবং জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা রক্ষা করে।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, দেশ যখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সাংবাদিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এই ভূমিকার মাধ্যমে ভোটাররা স্বচ্ছতা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন। তিনি মূলত নির্ভুল তথ্য প্রচার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিবিড় পর্যবেক্ষণকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের আয়োজনকারী সংস্থা মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি) বিশ্বজুড়ে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা বিভিন্ন দেশের একটি অংশীদারিত্বমূলক সংগঠন। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বৈশ্বিক জোটের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ছয় মহাদেশের ৫০টিরও বেশি দেশ।
এমএফসি-এর সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সংগঠনটি সাংবাদিকদের বা সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও সক্রিয়ভাবে কাজ করে। আলোচনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আইনি কাঠামোর সংস্কারে উৎসাহিত করার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে এমএফসি তার লক্ষ্য পূরণে সচেষ্ট থাকে।
অনুষ্ঠানে জার্মান চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স এবং সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানও বক্তব্য রাখেন।

