দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষণে নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে উপদেষ্টা পদ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় শেখ বশিরউদ্দীন কর্মকর্তাদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, এই মন্ত্রণালয়ে আসার আগে আপনাদের সম্পর্কে আমার মনে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা ছিল। কিন্তু আজ কাজ শেষে আমি একরাশ কৃতজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা দেশের প্রকৃত সম্পদ। সঠিক নেতৃত্ব পেলে আপনারা যে চমৎকার কাজ করতে পারেন, গত কয়েক মাসে তা প্রমাণ করেছেন।”
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বিদায়ী উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের আচরণের পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর এই রূপান্তর যেন প্রতিটি কর্মকর্তার কাজের ধরনে প্রতিফলিত হয়। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “কেউ যদি আপনাদের দিয়ে কোনো অন্যায্য কাজ করাতে চায়, তবে আপনাদের সরাসরি ‘না’ বলার সাহস রাখতে হবে। অথবা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বুঝিয়ে বলতে হবে যে, কাজটি নীতিগতভাবে এভাবে হওয়া উচিত।”
আগামী ১৮ই ফেব্রুয়ারি নতুন নেতৃত্ব বা মন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন—এই বিষয়টিকে মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি ‘উদযাপনের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। নতুন মন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং প্রশাসনিক কাজে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান। শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “নতুন মন্ত্রীর সঙ্গে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে তা পিছে না বলে সরাসরি তাকে জানাবেন। এতে কাজের স্বচ্ছতা বাড়ে।”
নিজের মেয়াদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে আমি কখনও নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করিনি এবং ভবিষ্যতেই তা করব না। আমরা আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সম্মিলিতভাবে কাজ করেছি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি উইং এবং দপ্তর যেভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছে, সেই সুখস্মৃতি নিয়েই আমি আমার ব্যবসায়িক বা পেশাগত জীবনে ফিরে যাচ্ছি।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপদেষ্টার কার্যকালের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান ও আয়েশা আক্তার, চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ এবং প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
বিদায় বেলায় কর্মকর্তাদের মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে তিনি মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন। এক ব্যবসায়ী থেকে নীতিনির্ধারক হওয়ার এই সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি যে পেশাদারিত্বের ছাপ রেখে গেলেন, তা মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক পরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

