আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া সেই আলোচিত আদেশটি স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। ফলে রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখা নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তার অবসান ঘটল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, তাকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, শিক্ষাপঞ্জি ঠিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে রমজানের নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত ক্লাস চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
এর আগে গত রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পুরো রমজান মাস স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডলের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সেই আদেশ দিয়েছিলেন। তবে একদিনের ব্যবধানেই উচ্চতর আদালতের চেম্বার জজ সেই আদেশে স্থগিতাদেশ দিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৫ জানুয়ারি, যখন আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাই এ দেশের দীর্ঘদিনের প্রথা ও রীতি। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ এবং ১৫২(১) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রথাও আইনের মর্যাদা পায়। তাই রমজানে স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
রিট আবেদনকারীর যুক্তি ছিল মানবিক ও ধর্মীয়। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, ৯৮ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সারাদিন ক্লাস ও যাতায়াতের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে তাদের রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার পথে বাধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া রমজানে স্কুল চালু থাকলে বড় শহরগুলোতে, বিশেষ করে ঢাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সিলেবাস শেষ করার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চেম্বার আদালতের আজকের এই স্থগিতাদেশের ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমজানের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্লাস চলবে।
আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আদেশের ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে থাকা অনিশ্চয়তা দূর হলো। তবে রমজানে যানজট ও গরমের কথা বিবেচনা করে স্কুলগুলোর সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। আপাতত আইনি লড়াইয়ে জয় হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ক্লাস সচল’ রাখার নীতির।

