ফেসবুক রিলস, ইনস্টাগ্রাম স্টোরি কিংবা ইউটিউব ভ্লগে ভিউ বাড়ানোর নেশায় যারা আসল টাকার নোটের আদলে কনটেন্ট তৈরি করছেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এলো বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আসল নোটের সদৃশ কোনো কাগজ বা নকশা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো এখন থেকে কেবল শখের বিষয় নয়, বরং গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাকার নোটের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং অনলাইন ব্যবসায়ী তাদের প্রচারণায় আসল নোটের রঙ, নকশা ও আকারের সঙ্গে মিল রেখে কৃত্রিম নোট ব্যবহার করছেন। কখনো কখনো এই নোটগুলো আসল নোটের চেয়ে আকারে বড় হলেও প্রথম দেখায় সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বাজার বা জনসমাগমপূর্ণ স্থানেও এই ধরণের ‘নমুনা নোট’ ব্যবহারের ঘটনা ঘটছে, যা সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরোক্ষভাবে জাল নোটের বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করে। সাধারণ মানুষ যদি আসল ও নকলের পার্থক্য বুঝতে ভুল করে, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষের কাছে এই ধরণের প্রচারণামূলক নোটগুলো আসল হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
আইনি বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৮৬০ সালের বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৮৯ (৬) ধারা অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যাংক নোটের সদৃশ কোনো বস্তু বা কাগজ তৈরি, ব্যবহার বা বিতরণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমন কিছু তৈরি করে যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাস্তি কেবল দণ্ডবিধিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা দৃশ্য প্রচারের বিষয়টি ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ এর আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে এই আইনের ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা গুজব ছড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে একটি সাধারণ ভিডিও বা ছবি পোস্ট করার দায়ে জেল ও জরিমানা—উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এবং ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেকেই আইনের তোয়াক্কা করছেন না। কিন্তু মুদ্রার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন খামখেয়ালি আচরণ রাষ্ট্রের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ মানুষকে এই ধরণের অননুমোদিত প্রচারণা থেকে বিরত থাকার এবং জাল নোটের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা ছবিতে টাকার নোটের অপব্যবহার নজরে এলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

