আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে জনমুখী ও উদ্ভাবনী প্রচার কৌশল গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।
আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জনমত গঠনে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তথ্য অফিসগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ওপর তিনি জোর দেন।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল (জুম প্লাটফর্ম) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব এই নির্দেশনা দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের ৬৮টি অফিসের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচন অতীতের সব নির্বাচন থেকে ‘অনন্য ও অভূতপূর্ব’ হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালানোর মূল দায়িত্বটি জেলা তথ্য অফিসগুলোকেই নিতে হবে। তিনি জেলা তথ্য অফিসারদের আজ (৩ ডিসেম্বর) থেকেই নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে একটি ঐতিহাসিক নজির স্থাপন হতে যাচ্ছে— ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। সচিবের মতে, এই যুগপৎ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইউনিয়ন বা গ্রাম স্তর পর্যন্ত তৃণমূলের জনগণকে অবহিত করা একটি ‘বড় চ্যালেঞ্জ’।
তবে, তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, তথ্য অফিসাররা তাঁদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম সুসংগঠিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে।
নির্বাচনকালীন সময়ে তথ্য বিকৃতি ও গুজব রোধে সচিব বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, গুজব ও তথ্য যাচাইয়ের (ফ্যাক্ট চেকিং) জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) নেতৃত্বে পরিচালিত ‘বাংলা ফ্যাক্ট’ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তথ্য অফিসারদের সংযোগ স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সচিব জেলা তথ্য অফিসারদের একটি উদ্ভাবনী (ইনওভেটিভ) দল হিসেবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় তাঁরা যেন জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করেন, সে বিষয়েও তিনি কঠোরভাবে নির্দেশ দেন।
সভাপতির বক্তব্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, প্রচার ও জনসচেতনতামূলক কাজে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ১০২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে ৩৪টি গান প্রস্তুত করা হয়েছে। মহাপরিচালক জানান, এই গানগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় পরিবেশন করা হবে, যেন স্থানীয় জনগণ সহজেই এর মর্মার্থ বুঝতে পারেন।
প্রচারণার কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, গ্রামের হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে জনগণকে দেখানো হবে কীভাবে হ্যাঁ/না ভোটে ভোটদান করতে হয়। এই ভোটদানের প্রক্রিয়া প্রদর্শনীর (ডেমো) মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হাতেকলমে শেখানো হবে। মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও হৃদয়গ্রাহী করে তোলা হচ্ছে।
গণমুখী প্রচার কৌশলের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে জনগণ বিপুল উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল আলম, যুগ্ম সচিব মাহফুজা আখতার, এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন ও সৈয়দ এ. মুমেন বক্তব্য রাখেন।

