বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়সীমা ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সব সদস্যের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
শফিকুল আলম বলেন, “আমরা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী মঙ্গলবার তথা ১৭ ফেব্রুয়ারির পর এটি আর বিলম্বিত হবে না।” তিনি আরও জানান যে, শুক্রবার রাতেই নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে, যা শপথ গ্রহণের পথকে প্রশস্ত করেছে।
শপথ অনুষ্ঠানটি কে পরিচালনা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক পর্যালোচনা চলছে এবং খুব দ্রুতই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। সাধারণত স্পিকার এই শপথ পাঠ করালেও বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি বা অন্য কোনো সাংবিধানিক পদের অধিকারী এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব আরও স্পষ্ট করেন যে, কেবল সংসদ সদস্যরাই নন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথও এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর পুরো টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে একটি মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা যায়। নির্বাচন উত্তর পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গতি আনতে দ্রুত সরকার গঠন অপরিহার্য।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ২৯৭ জন বিজয়ীর তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ সম্পন্ন হলে সপ্তাহের শেষ নাগাদ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গণতান্ত্রিক যাত্রায় বাংলাদেশ এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে।

