সারাদেশে উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে গড়ে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন থেকে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, দেশের মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গড় হিসাব পাওয়া গেছে। সচিবের মতে, সকালের তুলনায় বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের সারি আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
ভোটের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে ইসি সচিব বলেন, শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামীণ জনপদে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ততা কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন গণতন্ত্রের জন্য এক ইতিবাচক সংকেত। তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত দেশের কোনো প্রান্তেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যার কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে হয়েছে। কোনো কেন্দ্র দখলের খবরও আমাদের কাছে নেই।”
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে সচিব জানান, কিছু কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলেও বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তা প্রশমিত হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং নিরাপদে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সাথে ইসি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
সচিব আরও যোগ করেন, কোনো কেন্দ্রে বড় ধরনের নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই। যেখানেই সামান্য বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, সেখানেই রিজার্ভ ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিকেলে ভোট গণনার আগ পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটার উপস্থিতি অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে, তাকেই এই উচ্চ শতাংশের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিকেলের দিকে এই হার আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসি ভবন থেকে জানানো হয়, ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর আপডেট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সবশেষে একটি সামগ্রিক ফলাফল সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হবে। তবে দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত এই ৩৩ শতাংশ ভোটের হার একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

