দীর্ঘ দেড় বছরের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা আর প্রস্তুতির পর বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত সমাগত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আদমজী কলেজে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আজকের এই দিনটি কেবল একটি নির্বাচনি দিন নয়, বরং জাতীয় জীবনের এক পরম আনন্দের দিন।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে সেনাপ্রধান যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, তখন তার চোখেমুখে ছিল দৃঢ়তা এবং আশাবাদের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “আমরা গত দেড় বছর ধরে প্রতিটি মুহূর্ত এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছি। আজ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধান অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা প্রদান করেন। তিনি জানান, সকাল থেকেই তিনি দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবরাখবর রাখছেন। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের কোথাও কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং ভোটের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, “নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। আপনারা নিঃসংকোচে বাসা থেকে বের হয়ে নিকটস্থ পোলিং স্টেশনে যান এবং নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিন।” সেনাবাহিনীর সরব উপস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সংবাদকর্মীরা সরাসরি মাঠ থেকে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছেন বলেই সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হতে পারছেন। এই স্বচ্ছতা জনগণের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।
সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন সারাদেশে ভোট নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইনশাআল্লাহ দেশ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়ে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের এই সুযোগকে তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আজকের এই দিনের সার্থকতা নিশ্চিত করবে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে দিনটি শেষ করার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সেনাপ্রধানের এই আশ্বাসবাণী বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল এবং ঢাকার বাইরের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে, যা একটি স্থিতিশীল আগামীর ইঙ্গিত দিচ্ছে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে তার বক্তব্য শেষ করেন।

