নির্বাচন ঘিরে গত ছয় মাস ধরে ডালপালা মেলা যাবতীয় গুজব ও শঙ্কাকে পেছনে ফেলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত কয়েক মাস ধরে জনমনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। নানামুখী গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে ভোট আদৌ হবে কি না, কিংবা পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠবে কি না। কিন্তু বাস্তবে আজ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সেই সব আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা একটি ঐতিহাসিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ঠিক সেই পথেই এগোচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষা শেষে মানুষ যেভাবে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরে পেয়েছে, তাকে গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন এই পুলিশ প্রধান।
নিজের ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে কমিশনার বলেন, নাগরিক হিসেবে তিনিও আজ অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘ সময় পর একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিজের রায় দিতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গর্ববোধ করছেন। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি কমিশনারের মতে, এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলগুলো ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, তারা তা মেনে নেবে। যখন একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট হয়, তখন ফলাফল মেনে নেওয়াই রাজনৈতিক সংস্কৃতির সৌন্দর্য।
এ সময় নিজের জীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, ২০১৮ সালেও তিনি এই একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন। তখন তিনি অবসরে ছিলেন। কিন্তু সেবার কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করার পরই তাকে জানানো হয়েছিল যে তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। সেই আক্ষেপ নিয়ে সেদিন তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল।
অতীতের সেই অন্ধকার অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, আজকের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছে, যা গত কয়েক নির্বাচনে দেখা যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দিনভর এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ভোট গণনা শেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীর প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। তবে এখন পর্যন্ত ভোটারদের আচরণ এবং পরিবেশ অত্যন্ত সহযোগিতামূলক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিএমপি কমিশনারের এই বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা গুজব বা সহিংসতার ভয়ে কেন্দ্রে আসতে দ্বিধা করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি অভয়বার্তা। বিকেল পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকলে এটি বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি অনন্য নজির হয়ে থাকবে।

