দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট ২০২৬। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী স্মৃতিকে স্মরণ করে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার সাহস জুগিয়েছেন।
সিইসি তার ভাষণের শুরুতেই গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল কণ্ঠে বলেন, “আজ আমরা যে গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, তা অর্জিত হয়েছে ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের অগণিত শহীদের রক্তের বিনিময়ে।” তিনি সেই উত্তাল সময়ের আহত যোদ্ধাদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি তাদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আগামীকালকের এই নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন সিইসি। তিনি বলেন, ভোট দেওয়া কেবল নাগরিক অধিকার নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের প্রতি বড় এক নৈতিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এক বিশেষ বার্তা দেন। নাসির উদ্দিন অনুরোধ করেন যে, নির্বাচনের মাঠে লড়াই থাকলেও ব্যক্তি ও দলের উর্ধ্বে যেন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে সবাইকে জয় এবং পরাজয়কে উদার চিত্তে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটারদের আশ্বস্ত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আপনারা কোনো প্রকার ভয় বা সংশয় ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে আসুন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সার্থক করুন।” তিনি মনে করেন, ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তবে সেই ভিন্নমত যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নবান হতে হবে।
মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকরা যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেন। যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় কমিশন যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ব্যক্তিগত সকল কষ্ট ও সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে জাতীয় এই মহতী কাজকে সার্থক করে তুলতে তিনি প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীর প্রতি অনুরোধ জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে সিইসি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবে। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখার একটি পরীক্ষা বলে মনে করেন তিনি। তার এই ভাষণটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য আস্থার এক অনন্য দলিল হয়ে রইল।

