ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে অর্থ বহন সংক্রান্ত একটি স্পর্শকাতর বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত নিজেই মুখ খুলেছেন তিনি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ৫ কোটি টাকা বহনের বিষয়ে তাকে ‘মিসকোট’ করা হয়েছে।
বিকেলে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসি সচিবের বরাত দিয়ে খবর প্রচার হয় যে—টাকার উৎস ও ব্যবহারের খাত বৈধ হলে নির্বাচনের সময় ৫০ লাখ তো বটেই, এমনকি ৫ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো আইনি বাধা নেই। এই খবরটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে এর তীব্র বিরোধিতা করা হয়।
বক্তব্যটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ক্ষুব্ধ ইসি সচিব বলেন, “আমাকে কোট করে বলা হচ্ছে যে আমি নাকি বলেছি—৫ কোটি টাকা নিয়ে গেলেও কোনো অসুবিধা নেই। এই কথা বলার কোনো এখতিয়ার, অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই। আমি এমন কথা বলিনি। আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
আখতার আহমেদ আরও জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এক জামায়াত নেতার কাছ থেকে অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে তার কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছিলেন যে, যারা অর্থটি ‘ইন্টারসেপ্ট’ বা আটক করেছে, তারাই এর উৎস (সোর্স), পরিমাণ (অ্যামাউন্ট) এবং উদ্দেশ্য (পারপাস) খতিয়ে দেখবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, নির্বাচন কমিশনের নয়।
সচিব আক্ষেপ করে বলেন, “দয়া করে এই অপতথ্য ছড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুন। আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময়ে যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে তা ক্রসচেক বা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির আটকের পর এই অর্থের বৈধতা ও নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসি সচিবের এই তথাকথিত বক্তব্য বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে। তবে সন্ধ্যার পর তার এই সরাসরি প্রত্যাখ্যানে পরিস্থিতির কিছুটা উপশম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং গুজব প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসি সচিবের এই স্পষ্টীকরণ ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

