আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সাধারণ ভোটারদের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই; বরং প্রকৃত ঝুঁকি তাদের জন্য যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায় কিংবা অবৈধ পথে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করবে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরতেই এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
র্যাব ডিজি বলেন, “নির্বাচনে ঝুঁকি অবশ্যই আছে, তবে সেই ঝুঁকি সাধারণ মানুষের জন্য নয়। যারা জাল ভোট দিতে যাবে, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করবে কিংবা ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে, ঝুঁকি কেবল তাদেরই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র শিথিলতা দেখানো হবে না।”
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ইতিমধ্যে দেশজুড়ে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, গত দেড়-দুই মাসে র্যাব বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এমনকি গতকালও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফল অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে—নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়। ইতিমধ্যে ৬৪ জেলায় র্যাবের স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব মাঠে কাজ করছে। রিটার্নিং অফিসার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে এলিট ফোর্সটির।
ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে বিশেষ সতর্কতার কথা জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব কেন্দ্রে স্থির বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোন নজরদারি, ডগ স্কোয়াড এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশের ব্যবহৃত ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল তদারকি নিশ্চিত করা হবে। আকাশপথে নজরদারির জন্য র্যাবের হেলিকপ্টারও স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন বা ভোটারদের প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা নস্যাৎ করে দিতে র্যাব সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে। জঙ্গি হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। যদি কোথাও ভোটগ্রহণের পরিবেশ নষ্ট হয়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিতের সুপারিশও করা হবে।”
সবশেষে র্যাব মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীকাল একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

