আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক গণভোটের প্রাক্কালে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে তাঁর এই ভাষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এই ভাষণে তিনি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে সরকারের নেওয়া সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরবেন। এছাড়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্ব এবং রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়েও তিনি জাতিকে দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভাষণের সময় ও প্রচার মাধ্যম
প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণটি আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। একইসাথে দেশের সকল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও স্টেশন এবং প্রধান উপদেষ্টার দাপ্তরিক ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলেও এটি একযোগে প্রচারিত হবে।
নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে জাতির এই শীর্ষ অভিভাবকের বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটদান নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে প্রশাসন। বিশেষ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ ও ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে ২৯৯টি আসনে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ভোটাররা প্রথমবারের মতো ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে তাদের রায় দেবেন। এই গণভোটে মূলত সংবিধান সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলোতে জনগণের সম্মতি চাওয়া হয়েছে।
আজকের ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস এই নতুন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুফল ও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করবে, যেখানে প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং ‘না ভোট’ প্রদানের সুযোগ থাকছে।
নিরাপত্তা ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি
ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন সারা দেশে ১ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রকে সিসিটিভি ও ড্রোন নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি যে কোনো ধরনের নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই জোড়া নির্বাচন—সংসদীয় ও গণভোট—বাংলাদেশের আগামীর গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে। তাই নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণটি কেবল একটি প্রথাগত ভাষণ নয়, বরং এটি একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর চূড়ান্ত বার্তা হতে পারে।

