দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। মঙ্গলবার বিকেলে কমিশনের বিশেষ সভায় এই ফল চূড়ান্ত করা হয়। এবারের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট ১২ হাজার ৩৮৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যারা এখন বিসিএসের পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
গত ৩০ জানুয়ারি একযোগে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের ১৯০টি কেন্দ্রে এই প্রিলিমিনারি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন আবেদনকারীর মধ্যে যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএসসি।
ফলাফল জানবেন যেভাবে
উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা এবং বিস্তারিত ফলাফল কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক বাংলাদেশের নির্ধারিত পোর্টালে (http://bpsc.teletalk.com.bd) আপলোড করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও দ্রুত ফলাফল জানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এসএমএসে ফল জানতে যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে PSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে 50 লিখে আবার স্পেস দিয়ে প্রার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি বার্তায় প্রার্থী তার ফলাফল জানতে পারবেন।
লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ
প্রিলিমিনারির বৈতরণী পার হওয়া প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো লিখিত পরীক্ষা। পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুমা আফরীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হতে পারে। এটি একটি সম্ভাব্য তারিখ; চূড়ান্ত সময়সূচি এবং কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য পরবর্তীতে সংবাদপত্রের বিজ্ঞপ্তি ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাময়িকভাবে যোগ্য ঘোষিত কোনো প্রার্থীর যদি প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো ঘাটতি থাকে, তবে যেকোনো পর্যায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। বিশেষ করে জাল সনদ, তথ্যে টেম্পারিং বা আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার মতো বিষয়গুলো ধরা পড়লে পিএসসি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের পদ সংখ্যা
৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের বিপরীতে বড় একটি অংশ নেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এবারের বিসিএসে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে।
এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ ও কারিগরি ক্যাডারের বাইরেও ৩৯৫টি নন-ক্যাডার পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হবে এই একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য এবার স্বাস্থ্য ও প্রশাসন ক্যাডারে বড় সুযোগ থাকছে বলে মনে করছেন ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা।
পিএসসি জানিয়েছে, ফল প্রকাশের এই গতি বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করাই তাদের বর্তমান লক্ষ্য। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এখন থেকেই লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

