আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ভোটের ফলাফল পরবর্তী নতুন সরকার গঠনের আইনি প্রক্রিয়া সামনে রেখে প্রশাসনের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ। বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে এবার সম্ভাব্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য দাপ্তরিক গাড়ি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল) সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৪৫ জন ধরে নিয়ে প্রোটোকল গাড়িগুলো সাজানো হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী, নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন এবং এরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে নতুন মন্ত্রীদের বাসা থেকে বঙ্গভবনে আনা এবং পরবর্তীতে তাদের চলাচলের জন্য সরকারি পোল থেকে গাড়িগুলো ধুয়ে-মুছে চকচকে করা হচ্ছে।
প্রস্তুত রাখা হচ্ছে অতিরিক্ত ব্যাকআপ গাড়ি
প্রটোকল অনুযায়ী ভিভিআইপিদের চলাচলে সবসময়ই কিছু অতিরিক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। তাই ৪৫ জন সদস্যের সম্ভাব্য তালিকার বিপরীতে মোট ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রাপথে কোনো গাড়ি বিকল হওয়া বা যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে যেন সাথে সাথেই বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়, সেজন্য ৫টি বাড়তি গাড়ি ও চালক সবসময়ই স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা যেসব গাড়ি ব্যবহার করছেন, তার পাশাপাশি সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে থাকা উন্নতমানের গাড়িগুলোকেও এই বহরে যুক্ত করা হয়েছে। গাড়িগুলোর যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে সেগুলোতে জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড এবং প্রয়োজনীয় সিল-মনোগ্রাম বসানোর কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। যারা নতুন সরকারের শপথের আমন্ত্রণ পাবেন, তাদের দোরগোড়ায় নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাবে এসব গাড়ি।
শপথের প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এই পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্তভাবে কতজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ভর করছে নতুন নির্বাচিত সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন রেখেছেন। তবে ঠিক কতজন শপথ নেবেন, তার চূড়ান্ত তালিকা হাতে পাওয়ার পরই গাড়িগুলো বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
নির্বাচন পরবর্তী নতুন যাত্রা
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে দেশে এখন উৎসবের আমেজ। একদিকে ভোটাররা যেমন অধীর আগ্রহে ব্যালট পেপারের অপেক্ষায় আছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোতে চলছে পরিবর্তনের প্রস্তুতি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সরকার আসতে যাচ্ছে, তাদের বরণ করে নিতে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
পরিবহন পুলের একজন কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, “আমরা তো গাড়ি প্রস্তুত করে ফেলেছি, এখন শুধু আরোহীদের নাম জানার পালা।” নির্বাচন পরবর্তী কয়েক দিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও বঙ্গভবন চত্বর যে মুখর থাকবে, তার পূর্বাভাস দিচ্ছে সরকারি দপ্তরের এই ব্যস্ততা। নতুন এই মন্ত্রিসভার মাধ্যমে দেশের মানুষ এক নতুন আগামীর স্বপ্ন দেখছে, আর সেই স্বপ্নের অংশীদার হতে প্রস্তুত দাঁড়িয়ে আছে এই প্রোটোকল গাড়িগুলো।

