বাংলাদেশের অধস্তন আদালতের দীর্ঘদিনের ছুটির প্রথায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সুপ্রিম কোর্ট। এখন থেকে ডিসেম্বর মাসজুড়ে টানা অবকাশের পরিবর্তে বছরের দুই ভিন্ন সময়ে ভাগ করে ছুটি কাটাবেন বিচারকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ‘ফুলকোর্ট’ সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এই সভায় হাইকোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি অংশ নেন। সভার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং মামলার জট কমানোর লক্ষ্যেই ছুটির এই নতুন বিন্যাস করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রথম দফায় ১৫ দিন এবং ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় ১৫ দিন অধস্তন আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকবে। এর ফলে বছরের শেষে টানা এক মাস আদালত বন্ধ থাকার যে সংস্কৃতি ছিল, তার অবসান ঘটল। চলতি ২০২৬ সাল থেকেই এই নতুন ক্যালেন্ডার কার্যকর হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেবল ছুটির পরিবর্তনই নয়, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই সভায়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে আরও শক্তিশালী করতে মোট ৪৬ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
পাশাপাশি অবকাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় নবগঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিচারপতিরা একমত পোষণ করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছুটির এই নতুন বিন্যাস বিচারপ্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে টানা ছুটির কারণে বছরের শেষভাগে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন জুন ও ডিসেম্বরে সমানভাবে ছুটি বণ্টন করায় আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমে স্থবিরতা আসার সুযোগ কম থাকবে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দিয়ে আসছেন। আজকের ফুলকোর্ট সভার এই সিদ্ধান্তগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলা এই সভায় বিচার বিভাগের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশের জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সকল অধস্তন আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসবে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

