নির্বাচনী উৎসবের আমেজ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিল গাজীপুরে। আজ সোমবার বিকেলে গাজীপুর-২ আসনের নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতিকালে এক ভয়াবহ গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৮ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গি বাজারের মেইন রোড এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনির সমর্থনে প্রচারণার প্রস্তুতি চলছিল। একটি ঘরের ভেতরে উড্ডয়নের জন্য রাখা বিপুল সংখ্যক গ্যাস বেলুন হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বদ্ধ ঘরে বিস্ফোরণ ঘটায় সেখানে উপস্থিত কর্মীরা আগুনের হলকায় দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে শিশু ও কিশোরদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
আহতদের মধ্যে রাব্বি (১৩), ইমাম (১৪), সিয়াম (১৬), রাফি (১২) ও বিজয়ের (১৬) মতো অপ্রাপ্তবয়স্কদের নাম পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও অনিক (২৭), রুবেল (৩৪) ও নির্জনের (২২) মতো তরুণ কর্মীরা মারাত্মক জখম হয়েছেন। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তাদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা রবিউল ইসলাম জানান, প্রার্থীর প্রচারণার স্বার্থে প্রচুর বেলুন মজুত করা হয়েছিল। হঠাৎ কী থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা তারা বুঝে উঠতে পারেননি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় সবাই কমবেশি দগ্ধ হয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “গাজীপুর থেকে ১৮ জনকে দগ্ধ অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। বর্তমানে তাদের জরুরি ড্রেসিং ও প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। কারো শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক কি না, তা ড্রেসিং সম্পন্ন হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।”
গাজীপুর-২ আসনের নির্বাচনী ময়দানে এই ঘটনাটি গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনা প্রচারণার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বেলুনে ব্যবহৃত গ্যাসের মান বা ঘরের ভেতরে কোনো অগ্নিশিখার সংস্পর্শ থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রচারণায় দাহ্য পদার্থ বা ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ নিয়ে আবারও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
দগ্ধ ১৮ জনের পরিবারের সদস্যরা এখন বার্ন ইনস্টিটিউটের সামনে ভিড় করছেন। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে স্থানীয় সাধারণ মানুষও এই দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝে এই অগ্নিকাণ্ড গাজীপুরবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, উৎসবের আড়ালে নিরাপত্তা সচেতনতা কতটা জরুরি।

