রাজধানীর ভাষানটেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর চোখের পানি মোছাতে এগিয়ে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেন।
কয়েকদিন আগে লাগা ওই আগুনে ভাষানটেকের বস্তি সংলগ্ন এলাকার বহু ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। মাথার ওপরের ছাদ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছিলেন কয়েক শ’ অসহায় মানুষ। আজ সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সেই দুর্দশার কথা শোনেন ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি কেবল সমবেদনাই জানাননি, বরং বিপন্ন পরিবারগুলো যাতে নতুন করে মাথা গোঁজার শক্তি পায়, সেজন্য তাদের হাতে প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন।
সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন পেশায় চিকিৎসক জোবাইদা রহমান। আগুনের ধোঁয়া এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর ফলে অনেক শিশু ও বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেখানে ডা. জোবাইদা রহমানের তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা দুস্থ মানুষদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করেন।
এ সময় ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, “বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের শিক্ষা এবং আমাদের রাজনীতির মূল দর্শন। যারা সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, তাদের এই কঠিন সময়ে আমরা একা ছেড়ে দিতে পারি না।” তার এই মানবিক উদ্যোগ ও স্বশরীরে উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বাঁচার আশা ও স্বস্তির সঞ্চার করেছে।
ত্রাণ বিতরণকালে ডা. জোবাইদা রহমানের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনরবাসনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনার আশ্বাস দেন এবং দলীয়ভাবে সাধ্যমতো পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
ভাষানটেকের বাসিন্দারা জানান, হুট করে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে তারা যখন দিশেহারা ছিলেন, তখন এই ধরনের সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম তাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জন্য স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্পটি বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

